সরকারে গেলে বগুড়ায় সিটি করপোরেশন হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াত বগুড়া জেলা ও ১০ দলীয় জোটের আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের জীবন উৎসর্গকরা বীর শহীদদের যে স্বপ্ন ছিল সেটি হলো একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়া৷ জনগণ জামায়াতকে সরকার গঠন করলে সেই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে৷
তিনি আরও বলেন, আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। অতীতে যারা ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাদের পরিণতি মানুষ দেখেছে। এখনো যারা নানা কৌশলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চায়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনও চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা হলো— আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না।
নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাত। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যোগ্যতার সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন আপনারা। আপনাদের কাছে এই ৭জন প্রার্থীকে আমানত দিয়ে গেলাম।
সরকারে গেলে বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-সিটি করপোরেশন করার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
তারা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করবেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মায়েদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা বরদাশত করা হবে না।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
-গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থানগড়/










