বাংলাদেশে তরুণ বয়সীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে মারা গেছেন ২১৯ জন। নতুন শনাক্তদের বড় অংশ অবিবাহিত তরুণ–তরুণী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ–তরুণী, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; যশোরে ৫০ জনের বেশি মানুষ ২০২৫ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারের সময় একই সুচ ভাগাভাগি, কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্ক, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা। এছাড়া পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের এইডস কর্মসূচি ইউএনএইডসের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, অধিকাংশ অবিবাহিত আক্রান্তের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বয়সে অনেকের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল পর্যায়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। একই সঙ্গে কার্যক্রমের ফলাফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
-এমইউএম










