বসন্তে পোশাকের প্রস্তুতি: রঙ, আরাম আর নিজস্বতার ছোঁয়া

ছবি: সংগৃহীত

শীতের ভারী পোশাক গুছিয়ে রেখে প্রকৃতি যখন নতুন রঙে সাজতে শুরু করে, তখনই জানিয়ে দেয় বসন্তের আগমন। বসন্ত মানেই হালকা হাওয়া, রোদ-ছায়ার খেলায় বদলে যাওয়া দিন, আর পোশাকে আসে স্বস্তি ও রঙিন ভাব। এ সময়টায় পোশাকের প্রস্তুতি শুধু ফ্যাশনের জন্য নয়, বরং আরাম ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও একটি বিষয়।

বসন্তের পোশাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাপড়ের নির্বাচন। সুতি, লিনেন, খাদি কিংবা হালকা মসলিন এ ধরনের প্রাকৃতিক ফ্যাব্রিক শরীরকে রাখে ঠান্ডা ও আরামদায়ক। দিনের বেলা তাপমাত্রা বাড়লেও এসব কাপড় ঘাম শোষণ করে স্বস্তি দেয়। তাই বসন্তের ওয়ার্ডরোব সাজাতে ভারী সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো।

রঙের ক্ষেত্রে বসন্ত মানেই প্রাণবন্ততা। হলুদ, বাসন্তী, হালকা সবুজ, আকাশি, গোলাপি কিংবা অফ-হোয়াইট এই রঙগুলো বসন্তের আবহের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। ফুলেল প্রিন্ট, হালকা মোটিফ বা ন্যূনতম নকশার পোশাক এ সময় বেশ জনপ্রিয়। তবে যারা সাদামাটা পছন্দ করেন, তারা সলিড রঙের পোশাকের সঙ্গে রঙিন ওড়না বা অ্যাকসেসরিজ যোগ করে বসন্তের ছোঁয়া আনতে পারেন।

নারীদের ক্ষেত্রে বসন্তে আরামদায়ক কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, হালকা শাড়ি কিংবা কো-অর্ড সেট বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য পাতলা সুতি শার্ট, পাঞ্জাবি বা ক্যাজুয়াল টি-শার্টের সঙ্গে হালকা রঙের ট্রাউজার বা জিন্স হতে পারে আদর্শ নির্বাচন। উৎসব বা বিশেষ দিনে বাসন্তী বা প্যাস্টেল রঙের পাঞ্জাবি বসন্তের আমেজকে আরও ফুটিয়ে তোলে।

হালকা গয়না, কাঠ বা মাটির তৈরি অলংকার, রঙিন ব্যাগ কিংবা সানগ্লাস বসন্তের পোশাককে সম্পূর্ণ করে। জুতার ক্ষেত্রে ভারী জুতা বাদ দিয়ে স্যান্ডেল, লোফার বা হালকা স্নিকার্স বেছে নেওয়াই আরামদায়ক।

সব মিলিয়ে বসন্তের পোশাকের প্রস্তুতি মানে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও রুচিকে গুরুত্ব দেওয়া। ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে যেন অস্বস্তি না আসে সে দিকে খেয়াল রাখাই সবচেয়ে জরুরি। প্রকৃতির মতোই পোশাকেও যদি থাকে হালকাপনা আর রঙের ছোঁয়া, তাহলেই বসন্ত হয়ে উঠবে আরও উপভোগ্য।

-সাবরিনা রিমি