সমাপনী উৎসবে বর্ণিল শিল্পকলা; আজ দেখা যাবে যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী

দীর্ঘ এক মাসব্যাপী চলা যাত্রাপালা উৎসবের পর্দা নামছে আজ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এই উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানটি আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর রাজপথে আয়োজিত হয়েছে এক অনন্য ‘নগর পরিভ্রমণ’। এতে বিভিন্ন দলের যাত্রাশিল্পীরা তাঁদের অভিনীত ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক চরিত্রের পোশাক পরে এবং সংলাপে অংশ নিয়ে রাজপথ মাতিয়ে তুলবেন। বিশাল যন্ত্রীদলের বাদ্য-গীতসহ এই পদযাত্রাটি শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর ও শাহবাগ মোড় ঘুরে পুনরায় শিল্পকলায় এসে শেষ হবে।
উৎসবের সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিটের বিশেষ প্রযোজনা ‘জেনারেল ওসমানী’। এম এ মজিদের রচনায় এবং তানভীর নাহিদ খানের পরিচালনায় এই যাত্রাপালাটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর জীবন ও বীরত্বগাঁথার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
বাঙালির লোকসংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো যাত্রাপালা। ঐতিহাসিক যাত্রাপালাগুলোর উদ্দেশ্য থাকে দেশপ্রেম ও বীরত্বের গল্প সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি মঞ্চে আসার পেছনে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কারণ রয়েছে:
জেনারেল এম এ জি ওসমানী ছিলেন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়েছিল। এই যাত্রাপালার মাধ্যমে তাঁর সামরিক কৌশল, বার্মা রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর বিশাল অবদানকে সাধারণ দর্শকদের সামনে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।
যাত্রাপালা এমন একটি শিল্প মাধ্যম যা গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক সবাইকে খুব সহজে স্পর্শ করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতেই এই যাত্রাপালার আবির্ভাব।
বঙ্গবীর ওসমানী ছিলেন আজীবন একজন নীতিবান ও তেজস্বী মানুষ। তাঁর জীবনের সত্যনিষ্ঠতা এবং দেশের প্রতি মমত্ববোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতেই শিল্পকলা একাডেমি এই রেপার্টরি প্রযোজনাটি তৈরি করেছে।
লামিয়া আক্তার