বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হোমনা-বাঞ্ছারামপুর ওভার ব্রিজের নিচে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়ার সমর্থক ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মতিন খানের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোমনা বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।

হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। তবে শুনেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়াকে নিয়ে উস্কানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে দিতে শ্রীমদ্দি গ্রামে যাচ্ছিল। বিএনপির নেতাকর্মীরা কুরুচিপূর্ণ স্লোগান বন্ধ করতে বললেও তারা শোনেনি। উস্কানিমূলক স্লোগানের বিরুদ্ধে বাধা প্রদান করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের একজন গুরুতর আহতসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহর বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মতিন খানকে নিয়ে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার স্যারের কবর জিয়ারতে যাই। শেষ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও অন্তবর্তী  সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানার হাসানের শশুর মরহুম জলিল সাহেবের কবর জিয়ারত করতে শ্রীমদ্দি গ্রামে যাচ্ছিলাম। পথে থানার ওসি ফোন করে বলেন আপনারা শ্রীমদ্দী যাবেন না, ওভার ব্রিজের কাছে অচেনা লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে আছে। পরে সেখানে গেলে সংঘর্ষ হয়।

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী সমকালকে বলেন, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা কোনো পক্ষ দেখি না, যারা দুষ্কৃতকারী তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

-সাইমুন