২ বছরেরও মুনাফা পাবেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী

বিতর্কের মুখে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুই বছরের জন্য ব্যাংকগুলোর আমানদকারীরা ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। আর চলতি বছর থেকে বাজারভিত্তিক মুনাফা দেওয়া হবে। বর্তমানে ব্যাংকটি সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে শতাংশ মুনাফার হার ঘোষণা করেছে।

বুধবার সব ব্যাংকের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি সব ব্যাংকের প্রশাসককে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব আমানতের কোনো মুনাফা নেই বিবেচনা করা হবে। কেউ মুনাফা তুলে থাকলে ‘হেয়ারকাট’ তথা মূল থেকে সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেক আমানতকারী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এসব ব্যাংকের অবহেলায় অর্থ আত্মসাতের কারণে লোকসানের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়টি শরিয়াহ সম্মত নয় বলে মত দিয়েছে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড।

ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। তাদের বিতরণ করা এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৭৭ শতাংশ এখন খেলাপি।জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেও মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে নিয়ে ভিন্ন মত দেখা দেয়।

ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত নেয় ‘মুদারাবা’ পদ্ধতিতে। আর চলতি আমানত নেয় ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ পদ্ধতিতে। মুদারাবা পদ্ধতিতে আমানতকারী ‘সাহিব-আল-মাল’ তথা মূলধন সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ব্যাংক ‘মুদারিব’ তথা ব্যবস্থাপক হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে আমানত রাখার সময় মুনাফার কত শতাংশ দেওয়া হবে সে বিষয় চুক্তিতে উল্লেখ থাকে। কোনো কারণে ব্যবসায় লোকসান হলে আমানতকারীকে লোকসানের ভাগ নিতে হয়। তবে ব্যাংকের দায়িত্বে অবহেলা বা বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে লোকসান হলে পুরো দায়ভার মুদারিব তথা ব্যাংকের ওপর বর্তাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো বাহরাইন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স বা আওফির শরিয়াহ মানদণ্ড মেনে চলে। সে অনুযায়ী, মুদারাবা চুক্তি একটি ‘ট্রাস্টভিত্তিক’ চুক্তি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায় লোকসান হলে মুদারিব তথা ব্যাংক দায়ী থাকবে না। তবে মুদারাবা তহবিল ব্যবহারে অসদাচরণ, অবহেলা বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের মতো বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে মুদারিব তথা ব্যাংক পুরো মূলধনের জন্য দায়ী হবে।

-সাইমুন