দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর নদী বেষ্টিত বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-কাজিরহাট) সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছাসিত স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। সবশেষ ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ভোটাররা।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রত্যাবর্তন আসন্ন নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক শাসনামল প্রত্যক্ষ করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে ঘিরে কৌতূহল ও আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট গঠিত হওয়ায় আসনটি জোটের প্রধান শরিক বিএনপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালেও জোটের হয়ে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন করেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালে বিএনপি ও জামায়াত জোট জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর। এসব কারণে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের ভোটাররা ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দেখতে পাননি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে সর্বমোট প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন-বিএনপি মনোনীত রাজিব আহসান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১০ দলের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত আবদুস ছালাম খোকন এবং মুক্তি জোটের মো. আব্দুল জলিল। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৮ জন।
-সাইমুন










