২২ বছর পর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহীতে পা রাখলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০০৪ সালে দলীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে এখানে শেষবার জনসভা করেছিলেন তিনি, এবার ফিরলেন দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে।

ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত এই জনসভা সকাল ১০টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ১৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চড়ে জনসভায় যোগ দিয়েছেন। জনসভা মাঠ ছাড়িয়ে লোকসমাগম ছড়িয়ে পড়েছে পাশের সড়কগুলোতে। পুরো শহর ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে ছেয়ে গেছে।
সমাবেশে কোনো পদ-পদবি না থাকা সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নওহাটা থেকে ভ্যানচালক মো. গোলাপ এসেছেন তার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে। গোলাপ বলেন, “দলে কোনো পদ নেই, তারেক রহমান আসবেন শুনে ছেলেকে নিয়ে চলে এসেছি।” বাগমারা থেকে আসা ৫৬ বছর বয়সী কৃষক মঈম কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুড় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম-সবার কণ্ঠেই ছিল পরিবর্তনের সুর। তারা জানান, কোনো সুবিধা নয়, কেবল ভালোবাসার টানেই দূর-দূরান্ত থেকে এই সমাবেশে এসেছেন।

সকাল ১০টা থেকেই স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য শুরু করেন। তারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মাঠ সরগরম রাখেন। জনসভার বক্তব্য প্রচারের জন্য মাঠ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৭০টি মাইক লাগানো হয়েছে।
তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হযরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর দরগা শরিফে জিয়ারত করতে যান। সেখান থেকে তার সরাসরি জনসভা মাঠে আসার কথা রয়েছে। জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে বক্তব্য দেবেন। রাত ৮টায় তাঁর বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরেকটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির এই বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর আমচত্বরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উজ্জীবিত, যা আসন্ন নির্বাচনে এই অঞ্চলে ধানের শীষের পক্ষে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
–লামিয়া আক্তার









