যারা গুম খুনমুক্ত বাংলাদেশ চান, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন উপদেষ্টা সাখাওয়া

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গুম খুনমুক্ত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ চাইলে সবাই অবশ্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন। এই এরকম সুযোগ বা চান্স সব সময় পাবেন না।
তিনি বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আসন্ন গণভোট ২০২৬ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচারণা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হ্যাঁ ভোট দিলে আপনারা অতীতে যে অরাজকতা দেখেছেন তা আর হবে না। আপনাকে কেউ কথা বলার জন্য গুম করবে না। এখন আপনি যেভাবে কথা বলতে পারছেন ভবিষ্যতেও যেন সে ভাবে কথা বলতে পারেন। আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেন নিজেদের লাটবাহাদুর মনে না করেন, এমন অন্যান্য পরিবর্তনসহ দ্বিকক্ষ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেন একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার সেভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেন না। অন্তর্র্বর্তী সরকারের কোনো এমপি নেই, মন্ত্রী নেই, উপজেলা চেয়ারম্যান নেই, অন্তর্র্বর্তী সরকারকে সরাসরি কাজ করতে হয়। কাজেই দেশ পরিচালনার জন্য যে ধরনের কাঠামো প্রয়োজন সেই কাঠামোর জন্য এই নির্বাচন করা। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।
এই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন উল্লেখ করে ড. সাখাওয়াত বলেন, আমি দেখেছি এর আগের নির্বাচনগুলোকে টুইস্ট করা হয়েছে। কোথাও না কোথাও কারচুপি করা হয়েছে। তাই আমরা আগের মতো কোনো নির্বাচন হতে দেব না ও হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, ‘গণভোট শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’- এই বার্তাকে সামনে রেখে প্রত্যেক নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।’
অন্তর্র্বর্তী সরকারের সফলতার জন্য তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে ড. এম সাখাওয়াত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্তব্য করেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ  তৈরিতে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার মালিক দেশের জনগণ। কোন দল যদি হ্যাঁ ভোটের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে তাহলে বুঝতে হবে তারা এই দেশের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছে ।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে এতোগুলো মানুষের প্রাণ গেল। শিক্ষার্থীদের মেরে তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এমন বর্বরতা অন্য কোন দেশে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এজন্য আমরা আর সেই জায়গা চাইনা। আমরা চাইনা যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের মাধ্যমে আবারও এ ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি হোক। তবে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাইবেন তারা না ভোটের পক্ষে থাকতে পারে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অনেক মাফিয়া এখন আর নেই। গত রমজানে বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার আশংকা থাকলেও আমরা সেটা হতে দেইনি। আমাদের জায়গা থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। তবে সারাদেশে জেলা উপজেলা পর্যায়ে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় তেমন কোনো কাজ করতে পারিনি। তবে চাচ্ছিলাম যে প্রতিটি জেলায় একটি কর্ম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার যেখান থেকে শ্রমশক্তি যেমন বের হবে তেমনি উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।
উন্নয়ন নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই উত্তরবঙ্গে ভালো কলকারখানা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের প্রতিবন্ধকতা হলো ক্ষমতার গ-ির  ভেতরেই অবস্থান করা। তবে আমরা আগামী সরকারের জন্য এর কিছু সুপারিশ করে যাব যেন সারাদেশে সুষম বণ্টন হয়। কোনো জেলা বা উপজেলা যেন অবহেলিত না হয় এবং পিছিয়ে না থাকে।
এ ছাড়াও সভায় গণভোটের গুরুত্ব, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন এবং অপপ্রচার রোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জেলা দেলোয়ারা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হক সুমনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ঠাকুরগাঁও ১ আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভোটারগণ।

-সাইমুন