বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের দুই ছাত্রনেতাকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এসপিসহ পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনগুরুত্বপূর্ণ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ। তাদের আদালতে না তুলে দুই রাত থানায় আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা ওই দুই তরুণের পায়ে সরাসরি গুলি করেন। এরপর ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এই অমানবিক নিষ্ঠুরতার ফলে পায়ে পচন ধরলে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাদের পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
আদালত এই মামলায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক এসপি আনিসুর রহমান, তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।
অন্যদিকে, এই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তারা সরাসরি গুলি চালানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ঘটনার সময় সাজানো অস্ত্র মামলাটি পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নাগরিকদের পঙ্গু করে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী এমএইচ তামিম ও মিজানুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরা।