ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে পুতিনকে আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই পর্ষদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসন, পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজায় শাসনব্যবস্থা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।

পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো বিষয়টি সোমবার প্রকাশ করা হয়। প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও অবসান পায়নি। এক বছর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন, তবে তা এখনও স্থায়ীভাবে থামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে শান্তি আলোচনার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “পুতিনও শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।” রাশিয়া ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের সব দিক ও সূক্ষ্ম বিষয় বোঝার চেষ্টা করছে। তবে পুতিনের আগ্রহের বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে মস্কো। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিন ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন।

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে পুতিনের পাশাপাশি আমন্ত্রণ পেয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, এবং ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস, কানাডা, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়া।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো লাম ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তি পর্ষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়া বাধ্যতামূলক। আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য তালিকা প্রকাশ করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় এটি ঘোষণা করা হবে।

সূত্র:আল–জাজিরা

আফরিনা সুলতানা/