দিনাজপুর- ৫ আসনে বড় দুই দল বিএনপি ও ১০ দলীয় জোটের দু’জনাই নতুন প্রার্থী হওয়ায় কপাল খুলেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর ৫ আসন।
এই আসনটি এককভাবে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখান থেকে ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর বিএনপি’র হয়ে ভোটযুদ্বে লড়ে গেছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির এক সময়ের আহবায়ক ও কান্ডারী এ.জেড.এম রেজওয়ানুল হক। তিনি ১৯৮০ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির জন্মের পর থেকে হক সাহেবই ছিলেন এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের একমাত্র প্রার্থী। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই তিনি হেরেছেন এবং জিতেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ত্যাগী নেতা হয়েও ধানের শীষ প্রতীক পাননি এজেডএম রেজওয়ানুল হক। ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হয়েছে একে বারে নতুন মুখ ব্রিটেন প্রবাসী এ কে এম কামরুজ্জামানকে। নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কামরুজ্জামানের নাম ঘোষণা হওয়ার দিন থেকেই দিনাজপুর ৫ আসনের পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর মানুষজন ফুঁসে উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দীর্ঘ সময় আন্দোলন ও মানববন্ধন করে। কিন্তু কাজ হয়নি। তারপরেও কামরুজ্জামান কে বহাল রাখে বিএনপি হাই কমান্ড। এনিয়ে এলাকায় মানুষদের মধ্যে চরম চরম খোভ বিরাজ করছে।
এদিকে ১০ দলীয় জোট গঠনের আগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন মো আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের এই প্রার্থীর পক্ষে বিপুল জনপ্রিয়তা এবং প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এমপি হিসেবে আনোয়ার হোসেনই এগিয়ে ছিলেন বলে স্থানীয় সকল জরিপে বলা হয়।
১০ দলীয় জোট গঠনের পর দিনাজপুর ৫ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এনসিপি-র প্রার্থী ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদকে। আহাদ দিনাজপুরে একদম অপরিচিত মুখ। জুলাই আগস্টের অভ্যুত্থানে তার অবদান থাকলেও দিনাজপুর বাসি ও এলাকার মানুষ জন তার সম্পর্কে তেমন অবগত নয়। প্রার্থী হিসেবে ডাঃ আহাদের নাম ঘোষণা করায় এখানেও জামায়াত শিবিরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ১০ দলের প্রার্থী হওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় এসেছেন। মানুষদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন।
এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, ১০ দলের প্রার্থী জামায়াত থেকে না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হক সাহেবের বেরিয়ে আসাটা এখন সময়ের ব্যাপার বলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
বিএনপি থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তিনি কাগজে-কলমে প্রার্থী হতে পারেন, কিন্তু বাস্তব রাজনীতির বিচারে তিনি হক সাহেবের কোনোভাবেই প্রতিপক্ষ নন। কারণ নেতৃত্ব শুধু দলীয় পরিচয়ে তৈরি হয় না, নেতৃত্ব গড়ে ওঠে যোগ্যতা, সাহস, গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের আস্থার উপর। সেই জায়গায় হক সাহেব অনেক আগেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
হক সাহেব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন। বিএনপি ও জামায়াত জোটের দুই অপরিচিত মুখের কাছে সহজে জিতে আসবেন হক সাহেব। তাই ভোটারদের মুখে শোনা যাচ্ছে দুই দলের ভুলের কারণে কপাল খুলেছে রেজওয়ানুল হক সাহেবের।
শাহজালাল, দিনাজপুর










