ইরানে শাসন পরিবর্তনের সময় এসেছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশটিতে এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। শনিবার পলিটিকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে সরকার পতনের দাবিতে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে। এখনই সেখানে শাসন পরিবর্তন করার সময় এসেছে।

গত তিন সপ্তাহে ইরানজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই তথ্য স্বীকার করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই কয়েক হাজার মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী।

উচ্চ মূলস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ জানুয়ারি ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিচ্ছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি ইরানিদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রতিষ্ঠান দখল করার আহ্বান জানান। ‘সাহায্য আসছে’ উল্লেখ করে তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন। পরদিন হঠাৎ করেই ট্রাম্প মত পাল্টান এবং বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানে গতি-প্রকৃতি কেমন হতে পারে– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পলিটিকোকে বলেন, দুদিন আগে ৮০০ জনেরও বেশি লোককে ফাঁসি না দেওয়াই ছিল তেহরানের সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

খামেনির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর বার্তা পোস্ট করার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে। এক পোস্টে খামেনি লেখেন, ‘ইরানি জাতির ওপর যে হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি এবং অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট দোষী বলে আমরা মনে করি।’ পরে ট্রাম্প বলেন, ‘একটা দেশকে কার্যকর রাখার জন্য সেই দেশের নেতাকে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। যেমনটি আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করি। নেতৃত্ব কখনও ভয় ও মৃত্যু চাপিয়ে দিয়ে হয় না, নেতৃত্ব হলো শ্রদ্ধা।’

একজন ইরানি কর্মকর্তা গতকাল রোববার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিক্ষোভে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের মতো নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।

ইরানের ইন্টারনেট স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা
ইরানের ইন্টারনেট ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশটিতে ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ সব ধরনের ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন। এমনকি ফোনে খুদে বার্তাও পাঠানো যাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বিদেশ থেকে নির্দেশ পেয়ে যেসব সন্ত্রাসী দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করছিল, তাদের নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়। রয়টার্স জানতে পেরেছে, ইরান সরকার স্থায়ীভাবে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। এ কারণে এক অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্পকে হামলা চালাতে নিষেধ করেন নেতানিয়াহু 
গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অত্যাসন্ন ছিল। তবে ওই সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন এখন ইরানে হামলা না চালান। ইরান হুমকি দিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা হলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি ছিল না। ইসরায়েল যুদ্ধের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।

ফের বিক্ষোভ ডেকে সাড়া পেলেন না রেজা পাহলভি
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেন। কিন্তু এই আহ্বানে মানুষ সাড়া দেয়নি। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যার পর উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন বা সমাবেশ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তবে প্রথম দিনই মাঠে কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি। বিশেষ করে তেহরানসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত।

-saimun