তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ পাঁচ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আঙ্কারার এসেনবোয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই ব্যক্তিগত জেটটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা সকলেই নিহত হন। ট্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার (GNU) দেশজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সব ধরনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
কারিগরি ত্রুটিই প্রাথমিক কারণ
তুরস্কের কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘কারিগরি ত্রুটি’কে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে (১৭:১০ GMT) আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানানোর পর হায়মানা জেলার কেসিক্কাভাক গ্রামসংলগ্ন এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, নাইট-ভিশন সিসিটিভি ফুটেজে আকাশে বিস্ফোরণের মতো আলোর ঝলক দেখা গেছে।
নিহতদের মধ্যে লিবিয়ার চার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা
আল-হাদ্দাদের সঙ্গে নিহত হন—
• জেনারেল আল-ফিতৌরি গারিবিল, লিবিয়ার স্থলবাহিনী প্রধান
• ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাউই, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান
• মোহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব, চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা
• মোহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব, সামরিক ফটোগ্রাফার
এছাড়া তিনজন ক্রু সদস্যও প্রাণ হারান। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল মাল্টা থেকে লিজ নেওয়া একটি ড্যাসল্ট ফ্যালকন–৫০ মডেলের জেট।
তুরস্ক সফর ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা বৈঠকে অংশ নিতে আল-হাদ্দাদ তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দুর্ঘটনার মাত্র একদিন আগেই তুরস্কের সংসদ লিবিয়ায় দেশটির সামরিক উপস্থিতির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপোলিভিত্তিক জিএনইউ (GNU) সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ২০২০ সাল থেকে তুরস্ক লিবিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছে এবং জ্বালানি ও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি সই করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ওয়ান লিবিয়া’ নীতির আওতায় পূর্ব লিবিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে আঙ্কারা।
যৌথ তদন্ত শুরু
ঘটনার তদন্তে আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। জিএনইউ (GNU) জানিয়েছে, যৌথ তদন্তে অংশ নিতে তারা একটি বিশেষজ্ঞ দল তুরস্কে পাঠাবে।
আল-হাদ্দাদের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মানসুরা মানজিল চৈতী/










