বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে তাদের চলাচলের ওপর আরোপিত ‘বৈষম্যমূলক’ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ নামে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবি
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘অশালীনতা প্রতিরোধ’ ও ‘বিশেষ নিরাপত্তা’র নামে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং রাত ১০টার পর মল চত্বরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নারী শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সময়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।
তাদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:
১. ‘বিশেষ নিরাপত্তা’র নামে সব ধরনের বেআইনি ও বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।
২. টিএসসিসহ ক্যাম্পাসজুড়ে পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য নারী টয়লেট নিশ্চিত করা।
৩. পরিচয়পত্র জমা দিয়ে অনাবাসিক ও ভিন্ন হলের ছাত্রীদের যেকোনো হলে প্রবেশের অনুমতি।
৪. যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল পুনর্গঠন ও কার্যকর করা।
৫. আবাসিক ছাত্রীদের মা ও বোনকে শর্তসাপেক্ষে হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, “খেলার মাঠে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে কোনো লিখিত বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা নেই। টিএসসির নারী টয়লেটের অবস্থা খারাপ, এটি সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্তই সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










