আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রদান করা কেবল সরকারের নয়, বরং রাজনৈতিক দল এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় অবস্থিত বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নির্বাচনের পরিবেশ প্রেস সচিব শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের বাধা বা সহিংসতার শিকার না হন, সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখা উচিত। যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হেনস্তার ঘটনা ঘটলে তার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেন তিনি।
ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা সমস্যার অবকাশ নেই। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। তিনি সাধারণ জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে জনগণকে শান্ত থেকে ভোট প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য গণনার সময়টুকুতে সবাইকে সহনশীল হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য ও নাগরিক অধিকার আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে প্রেস সচিব বলেন, দেশের মানুষ বিশ্বাস করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার, অনাচার ও দীর্ঘদিনের অত্যাচারের অবসান ঘটবে। তিনি আরও বলেন, মানুষ বুঝে গেছে যে একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই ভোটের বিকল্প নেই। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত নিরাপদ থাকবে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্র এমন একটি পথে পরিচালিত হবে যেখানে নাগরিক অধিকার সমুন্নত থাকবে এবং প্রতিটি মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক বুচাই পাগলার মাজার মাজার পরিদর্শনের সময় শফিকুল আলম এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বুচাই পাগলার মাজার কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক। বিশেষ করে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে আয়োজিত বাউল মেলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে। যেখানে সারা দেশের প্রথিতযশা বাউল শিল্পীরা সমবেত হন। মাজার পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি এবং স্থানীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।