দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আবারও আলোচনার টেবিলে বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। এই লক্ষ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভার উদ্দেশে তেহরান ছেড়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরাগচির নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রতিনিধি দল জেনেভায় যাবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে (মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে) দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা হবে। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে ওমান।
জেনেভা সফরের সময় আরাগচি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। তিনি সুইজারল্যান্ড ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই সংস্থাটি পারমাণবিক কর্মসূচি তদারক করে।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা বসেছিল ওমানের মাসকাতে। এর আগে গত বছরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যায়। কারণ, ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
বর্তমান আলোচনার পেছনে বড় একটি কারণ হলো চাপ ও হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজও পাঠিয়েছে। অন্যদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়েও উত্তেজনা বেড়েছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদ ঘানবারি বলেছেন, ইরান এমন একটি চুক্তি চায়, যাতে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। বিশেষ করে বিমান চলাচল, খনিজ এবং তেল–গ্যাস খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে চায় তেহরান।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
-সাইমুন










