মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দেশের কৃষক, বিজ্ঞানী ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি স্থানীয় প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার(১৭ জানুয়ারী) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। সম্মেলনটির আয়োজন করেছে যবিপ্রবি’র জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সমর্থক, তবে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। জেনেটিক পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, তবে মালিকানা ও অধিকার অবশ্যই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় প্রজাতি রক্ষা ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ও জলজ সম্পদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জেনেটিক মডিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ বা প্রাণীকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্থানীয় প্রজাতি চাষ করা কৃষকরা তাদের অধিকার হারাতে পারেন।’
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাছ কেবল পুষ্টির উৎস নয়, বরং ত্বকের যত্ন ও কসমেটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পণ্য তৈরি হলে তা সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জলজ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং এই বৈচিত্র্য দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, স্থানীয় বাগদা চিংড়ি শুধু স্বাদের জন্য নয়, সাংস্কৃতিক গুরুত্বেও বিশেষ। কিছু মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমদানির আবেদন করলেও, তা বন্ধ করে দেশীয় প্রজাতি গলদা বাগদা উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হোসাইন আল মামুন।
সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আব্দুল মাজিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. এম. মোজাম্মেল হক। সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন যবিপ্রবি’র ডিন প্রফেসর ড. মো: শেরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
ইমরান, সিনিয়র রিপোর্টার।










