বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত দেড় দশকে দেশে যে গুম ও খুনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিটি মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। তবে এত কিছুর পরও কর্মীরা রাজপথ ছাড়েননি।”
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি কখনো কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত পরিচয় ধারণ করেনি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এই লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে।” তিনি ঘোষণা দেন, জনগণের ম্যান্ডেটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গুম-খুনের শিকার শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করা হবে।
গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তারেক রহমান বলেন, “কেউ কেউ নানা অজুহাতে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। যারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা যেন সফল হতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হওয়া মানেই হবে শহীদদের প্রতি চরম অবিচার।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমানো যাবে না।
সারাদেশ থেকে আসা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা এই সভায় অংশ নেন। তারা বিগত বছরগুলোতে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেন এবং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় সভাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
-এম. এইচ. মামুন










