টিআইবি মার্চ ২০২৪-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, শুধুমাত্র ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদাবাজির ভাগ পান রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ এক বিবৃতিতে টিআইবি মন্তব্য করে যে, সরকার পতনের পর বিভিন্ন মহলে শুরু হওয়া দখল, দলবাজি ও চাঁদাবাজি “নতুন বাংলাদেশ”-এর অভীষ্টের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
আগস্ট ২০২৫-এ টিআইবির এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের এক বছর পরও দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না।
ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রকাশিত “পরিষেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩” শীর্ষক প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, মে ২০২৩ থেকে এপ্রিল ২০২৪-এর মধ্যে ৭১% এর বেশি পরিবার কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট (৮৬%), বিআরটিএ (৮৫.২%), আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৭৪.৫%) এবং বিচারিক পরিষেবা (৬২.৩%) সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI) ২০২৪ অনুযায়ী, ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৩, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পরেই দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
টিআইবি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাদ দেওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এর ফলে দুদক রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।










