বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে না—এমন ধারণা জোরালো হওয়ায় বৃহস্পতিবার তেলের দাম কমেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ছুটির আগেই তেল কেনার প্রবণতা বাড়ে, ফলে শুক্রবার দাম সামান্য বৃদ্ধি পায়।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মার্টিন লুথার কিং দিবস উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি থাকায় বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য ঘাটতির ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগে তেল কিনেছেন। যদিও ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবু তাৎক্ষণিক শঙ্কা কিছুটা কমেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ ডলার ১৩ সেন্টে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৯ ডলার ৪৪ সেন্ট, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় শূন্য দশমিক ৪২ ভাগ বৃদ্ধি।

সংবাদে আরও বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে দায়িত্ব শেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পারস্য উপসাগরে যাওয়ার বিষয়টি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন মনে করেন, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এই উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।

ফিল ফ্লিন বলেন, ধারণা অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই ছুটির সময়ে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা এড়াতে অনেকেই শুক্রবার তেল কিনেছেন।

এর আগে ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের শঙ্কায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের বক্তব্যের পর দাম চার শতাংশের বেশি কমে যায়। তিনি জানান, তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন কিছুটা কমেছে, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পেয়েছে।

কমার্স ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল পরিবহন হয়। এটি হলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে উত্তেজনা কমলে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ আবার আলোচনায় আসবে এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা তেল ধীরে ধীরে বাজারে প্রবেশ করতে পারে। তাঁদের ধারণা, চলতি বছরে সামগ্রিকভাবে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

ফিলিপ নোভার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও বর্তমানে বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর মতে, চীনের চাহিদায় বড় ধরনের বৃদ্ধি বা বড় কোনো সরবরাহ সংকট না হলে তেলের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকবে। তিনি ধারণা দেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫৭ থেকে ৬৭ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়া, বিশেষ করে চীনের চাহিদা কমে যাওয়ায় তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী রয়েছে।

-আফরিনা সুলতানা/