আইসিসির ভারতীয় প্রতিনিধিদের ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ

আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং ভেন্যু বিতর্ক নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে আইসিসি প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। লজিস্টিক বিপর্যয়ের কারণে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে কেবল একজন  শনিবার ঢাকায় পৌঁছেছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ একা ঢাকা সফরে আসছেন। তার সঙ্গে আইসিসির আরও এক ঊর্ধ্বতন ভারতীয় কর্মকর্তার আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভিসা না পাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। দুই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শীতল সম্পর্কের কারণেই এই ভিসা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইসিসি প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আজ বিসিবি এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। তার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা এবং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পেশ করা। তবে বিসিবি এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থানে এখনো অনড়। নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের মাটিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলতে সরাসরি না করে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিকল্প হিসেবে ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে বিসিবি।

সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং ভারতের অভ্যন্তরে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিবি মনে করছে, ভারতে বাংলাদেশি ক্রিকেটার, দর্শক এবং সংবাদকর্মীরা নিরাপদ নন। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং বাংলাদেশ কেবল শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে আগ্রহী।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। এর মধ্যে উদ্বোধনী দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসি ইতিমধ্যে ভারতের চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করলেও বাংলাদেশ তা গ্রহণ করেনি।

সমঝোতা না হলে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আজকের বৈঠকটিই মূলত নির্ধারণ করবে—টাইগাররা কি শেষ পর্যন্ত ভারতে যাবে, নাকি টুর্নামেন্টের সূচিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে।

-এম এইচ মামুন