বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভোটের হিসাবে পরিবর্তনের আভাস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণার ফলে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাচনী হিসেবে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভোটের হিসাবে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে ২৭৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পরেই পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আলাদা ছক কষছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরের পর সংবাদসম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আন্দেলন আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো চাঙাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দ এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই বিএনপিও কিছুটা স্বস্তিতে। এর পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। প্রথমত, ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় জামায়াত ছাড়া বিএনপির সামনে বড় কোনো প্রতিপক্ষ থাকল না। অন্যটি হচ্ছে, এর ফলে নির্বাচনি পরিবেশেও কিছুটা ভারসাম্য আসবে। তবে ইসলামী আন্দোলন ১১ দল জোট ত্যাগ করায় বরিশাল সদর আসনে নানামুখি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এ আসনের ভোটের চালচিত্রই পালটে যাবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন দলটির নায়েবে আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাইর ছোটভাই মুফতি ফয়জুল করিম। জামায়াতের সঙ্গে প্রথম থেকেই ইসলামী আন্দোলনের একটি ঠান্ডা লড়াই চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ গোছানো অনেক আসনেই ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর একাধিক দায়ত্বশীল সূত্রের দাবি, বরিশাল সদর আসনে জামায়াত প্রার্থী ভালো অবস্থানে থাকালেও জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তা ছেড়ে দিয়েছে তারা।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল সদর অসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ইতিপূর্বে জোটের স্বার্থেই আমরা সাজানো বাগানও ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ তবে দল যদি তাকে বরিশাল সদর আসনে নির্বাচন করতে বলে, তাহলে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও জানান হেলাল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ইসলামীই এক দল আরেক দলের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে। ফলে এর সুবিধা কিছুটা হলেও বিএনপি লাভ করতে পারে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এখনো বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও বিএনপি একটি ওয়ার্ড একটি কমিটি গঠন করতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির কতিপয় নেতাকর্মী যে বদনম কামাই করেছে, তা থেকে এখনো উত্তরণ ঘটেনি। বরিশাল মহানগরীতেই দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ রাজনৈতিক দলটির সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা জনমনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা নিয়ে নানা চ্যলেঞ্জের মুখেও বরিশালে বিএনপির একাধিক নেতা সিটি মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মনেনয়ন নিয়ে নানান ছক কষছেন। অথচ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতৃত্ব পর্যায়ে তেমন কোনো তত্পরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যা মহানগরী ও সদর উপজেলার ভোটারদের মধ্যেও নানামুখি প্রশ্নের জন্ম দিতে শুরু করেছে।

তবে এসব কিছুর মধ্যেই ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়াসহ আলাদা নির্বাচনের ঘোষণায় দলটির মূল প্রতিপক্ষ কে হতে যাচ্ছে—তা-ই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। অন্যদিকে নির্বাচনের মাঠে কী পরিবেশ-পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে; তাও হিসাব করতে শুরু করেছে জামায়াত ইসলামীর দায়িত্বশীল মহল।

-মামুন