মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফার ভোটেও এগিয়ে জান্তা সমর্থিত ইউএসডিপি

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটেও বড় জয়ের পথে রয়েছে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। গণতন্ত্রকামী দলগুলোর বর্জন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়া অধিকাংশ আসনেই ইউএসডিপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগত এই দলটি প্রথম দফার ভোটেও একইভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জয় একেবারেই একপাক্ষিক, কারণ মূল বিরোধী দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

রাখাইন, কায়িন এবং সাগাইংয়ের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের (পিডিএফ) সঙ্গে জান্তা বাহিনীর লড়াই চলমান থাকায় অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়নি। যেসব এলাকায় ভোট হয়েছে, সেখানেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। স্থানীয়দের দাবি, জান্তা সরকারের ভয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে ভোট দিতে গিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেফতার বা হয়রানির আশঙ্কায় ঘরেই ছিলেন।

জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো আগে থেকেই এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চি-সহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি না দিয়ে এবং একটি নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না করে এই নির্বাচন কোনোভাবেই বৈধতা পেতে পারে না। অন্যদিকে, জান্তা সরকার দাবি করেছে, দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার নিজেদের শাসনের একটি ‘বেসামরিক’ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচনে জান্তা সমর্থিত দলের এই জয় মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ বা সংকট নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখবে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। বরং এই একপাক্ষিক নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন