ইরানের নির্বাসিত সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে আলি রেজা পাহলভি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সরকার পতনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভকে সফল করতে হলে বিশ্বকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এর অংশ হিসেবে তিনি ইরানের শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড’ বা আইআরজিসির ওপর হামলার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন এখন অবশ্যম্ভাবী। প্রশ্ন এটি নয় যে পতন হবে কি না; প্রশ্ন হলো এটি কখন হবে।” রেজা পাহলভি মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন-
“ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ওপর ‘সার্জিক্যাল হামলা’ (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ) চালানো হলে বিক্ষোভকারীদের জন্য আন্দোলন সফল করা আরও সহজ হবে। তার মতে, এর ফলে অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত ঠেকানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “এতে আমাদের কাজ সহজ হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে প্রাণহানি কমবে।”
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এক সপ্তাহের ব্যবধানে চরম সহিংস রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পাহলভির বক্তব্যের পর হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত কঠোরভাবে এই আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, চলমান আন্দোলনে এ পর্যন্ত অন্তত ২,০০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বিদেশি শত্রুদের প্ররোচনায় ‘দাঙ্গাবাজরাই’ এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি অভিযোগ করেন, ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাতে অনিচ্ছুক। আর সে কারণেই সরকার অন্য দেশ থেকে মিলিশিয়াদের ভাড়া করে এনে আন্দোলন দমনের কাজে ব্যবহার করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তিনি ইরানে ফিরে যাবেন এবং দেশটির সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেবেন। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইরানের মানুষই ঠিক করবে কে তাদের নেতা হবে। আমি শুধু তাদের স্বাধীন হওয়ার পথে সহায়তা করছি।”
সূত্রঃ বিবিসি
-এম. এইচ. মামুন










