ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একটি সাধারণ ক্ষমা আইন ঘোষণার কথা জানিয়েছেন, যার ফলে শত শত বন্দির মুক্তি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর এটি রদ্রিগেজ সরকারের অন্যতম বড় সংস্কারমূলক উদ্যোগ।
শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন,
“১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার পুরো সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সাধারণ ক্ষমা আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ন্যায়বিচারপতি, ম্যাজিস্ট্রেট, মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি জানান, জাতীয় পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে এই সাধারণ ক্ষমা বিলটি বিবেচনায় নেবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক পূর্বধারিত ভাষণে তিনি বলেন,
“এই আইন সহিংসতা ও চরমপন্থা দ্বারা উসকে দেওয়া রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষত সারাতে সহায়ক হবে বলে আমরা আশা করি।”
তিনি আরও বলেন,
“এই আইন আমাদের দেশে ন্যায়বিচার ও নাগরিক সহাবস্থানের পথ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।”
এ সময় রদ্রিগেজ রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত কুখ্যাত গোপন পুলিশ কারাগার এল হেলিকোইডে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন। এই কারাগারে নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থা নথিভুক্ত করেছে।
তিনি জানান, এল হেলিকোইডেকে আশপাশের এলাকার জন্য একটি ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
ভেনেজুয়েলাভিত্তিক বন্দি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে ৭১১ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮৩ জনের সাজা হয়েছে।
ফোরো পেনালের সভাপতি আলফ্রেডো রোমেরো সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও বলেন, এটি অবশ্যই সব বন্দির ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন,
“সাধারণ ক্ষমা তখনই কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সকল নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করবে, দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করবে না এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের কাঠামো ভাঙতে সহায়তা করবে।”
ফোরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী, মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর রদ্রিগেজ সরকারের অধীনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০২ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মানবাধিকারকর্মী এদুয়ার্দো তোরেস শুক্রবার রাতে কারামুক্ত হয়েছেন। তিনি মে ২০২৫ সাল থেকে আটক ছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠন ও বন্দিদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যাদের রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাজা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বন্দি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, আটক ব্যক্তিরা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত। তারা দাবি করেছেন, ৬০০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্ট নয় এবং আগের বছরগুলোতে মুক্তিপ্রাপ্তদেরও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বেলাল হোসেন/










