জনগণপন্থি রাজনীতির ডাক দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন একটি জনগণনির্ভর উদ্যোগ— নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’—এই মূল স্লোগান সামনে রেখে আত্মপ্রকাশের দিনেই এনপিএ তাদের পাঁচটি মৌলিক আদর্শ ঘোষণা করে। এসব আদর্শ হলো গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা অধিকারভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।

দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ ও প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয় এবং বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম তৈরি হয়।

এনপিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত করছে। এর ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতা ও সম্পদ আহরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবামুখী কাঠামোয় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এনপিএ।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছে।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে এনপিএ লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। তাদের লক্ষ্য একটি উৎপাদনমুখী, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ভর্তুকি এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কাঠামোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈষম্য কমাতে প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট প্রসঙ্গে এনপিএ জানায়, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও লাগামহীন নগরায়ণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ জানায়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবে।

এ ছাড়া মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেয় নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

-আফরিনা সুলতানা/