ইরান থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিল নিউজিল্যান্ড

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির জেরে তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দূতাবাসের সব কূটনীতিক ও কর্মীদের ইতিমধ্যে নিরাপদে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক বিমানে করে কূটনৈতিক কর্মীরা ইরান ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তেহরান দূতাবাসের যাবতীয় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এই সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরানে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা এখন ‘অত্যন্ত সীমিত’ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়েলিংটন।

নিউজিল্যান্ড সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি রেখেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে- ইরানে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডবাসীদের বর্তমান বাণিজ্যিক ফ্লাইট সচল থাকতেই দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও যোগাযোগ বিভ্রাটের কারণে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সুযোগ পেলেই স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বৃহস্পতিবার ইরানের পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন এবং নিহতের ঘটনায় নিউজিল্যান্ড গভীরভাবে মর্মাহত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের তথ্য অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বর্তমানে ইরানে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের আগে গত বুধবার যুক্তরাজ্যও তেহরানে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে সব কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির মুখে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ইরানে ইতিমধ্যে ২,৫০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

-এএফপি

এম. এইচ. মামুন