আহমেদ হাসান সানির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ এবং বেগম রোকেয়ার বিখ্যাত গল্প অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেটেড ছবি ‘সুলতানা’স ড্রিম’ একসঙ্গে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল ছবি ।
দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আহমেদ হাসান সানির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত সানি ‘শহরের দুইটা গান’, ‘হয়তো আমরা’, ‘মানুষ কেন এ রকম’, ‘কেমনে কী’—এর মতো জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’ নির্বাচিত হয়।
নতুন সিনেমার নাম প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, “রাজনৈতিক আলাপকে আমরা এক ধরনের নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত করেছি। সেই ট্যাবু ভাঙতেই এই নাম। গল্পের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস নিয়ে কথোপকথনের চেষ্টা করেছি।”
সিনেমায় প্রবাসী বাংলাদেশি নূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আজাদ আবুল কালাম, তানভীর অপূর্ব, এ কে আজাদ সেতু ও কেয়া আলম। ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা করেছেন খালিদ মাহমুদ।
নির্মাতা জানান, বিকেলে স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা শপিং মল শাখায় আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচটি শাখায় প্রতিদিন মোট ১৪টি শো চলবে সিনেমাটির।
এ ছাড়া অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘রুহের কাফেলা’ নির্মাণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আহমেদ হাসান সানি। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় আড়াই বছর আগে নির্মাণ শেষ হওয়া অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘সুলতানা’স ড্রিম’ আজ থেকে বাংলাদেশে প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্সের ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচটি শাখায় সিনেমাটি দেখা যাবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ১৮টি শো চলবে।
বেগম রোকেয়া হোসেনের কালজয়ী গল্প সুলতান’স ড্রিম প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) থেকে প্রকাশিত The Indian Ladies’ Magazine-এ। পরবর্তীতে লেখিকা নিজেই গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেন ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে। একশ বছরেরও বেশি সময় পর ২০১২ সালে নয়াদিল্লির একটি আর্ট গ্যালারিতে গল্পটির একটি কপি নজরে আসে স্প্যানিশ চলচ্চিত্রকার ইসাবেল এর্গেরার। তখনই তাঁর মনে হয়, এই গল্পকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া জরুরি।
সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় অ্যানিমেটেড ছবি ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’। ছবির গল্পে দেখা যায়, ভারতের আহমেদাবাদের একটি গ্রন্থাগারে তরুণ শিল্পী ইনেসের হাতে আসে Sultana’s Dream। যেখানে নারীই রাষ্ট্র পরিচালনা করে, জ্ঞানচর্চা করে, আর পুরুষরা থাকে গৃহবন্দী। গল্পে মুগ্ধ হয়ে ইনেস লেডিল্যান্ডের সন্ধানে ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ান এবং বেগম রোকেয়ার চিন্তা ও জীবনের চিহ্ন অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়। একই বছরের ১৭ নভেম্বর এটি স্পেনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এরপর ভারত, সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডসহ ১৫টির বেশি দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি।
বহুভাষিক এই ছবিতে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান ও স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহার রয়েছে। এতে কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গান রয়েছে, সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ এবং কণ্ঠ দিয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
-মাহমুদ সালেহীন খান









