ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটলে দেশটি অবিলম্বে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক দশকের শত্রুতা মিটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে—এমনই এক বৈপ্লবিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই ‘নতুন ইরান’-এর স্বপ্ন দেখান।
পাহলভি তার বিবৃতিতে আধুনিক আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনের ‘আব্রাহাম চুক্তি’র আদলে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘সাইরাস চুক্তি’। এই চুক্তির লক্ষ্য হবে একটি স্বাধীন ইরান, ইসরায়েল এবং বৃহত্তর আরব বিশ্বকে একই সুতায় গাঁথা। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইরান ও ইসরায়েলের বৈরিতা ঘোচানো অপরিহার্য।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার যে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা আমূল বদলে ফেলার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। পাহলভি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের সাথে আমাদের হারানো বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে। একটি আধুনিক ইরান হবে বিশ্ব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক দায়িত্বশীল অংশীদার।”
বর্তমানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করবে তেহরান। মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ এবং কট্টর ইসলামবাদের বিরুদ্ধে ইরান হবে অগ্রণী যোদ্ধা। জনগণের শিক্ষা ও আধুনিক মনস্কতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা হবে।আলজাজিরা।
রেজা পাহলভির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তুঙ্গে। গত ডিসেম্বর থেকে দেশটির মুদ্রার ভয়াবহ দরপতন ও আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দাবি করছে, যা তেহরানের ক্ষমতায় থাকা নেতাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
পাহলভি তার বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জোয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে, ১৯৭৯ সালের আগের ইরান ছিল অনেক বেশি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় ও সমৃদ্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহলভির এই ঘোষণা মূলত পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসরায়েলি লবির সমর্থন আদায়ের একটি বড় চেষ্টা। তবে ইরানের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষ এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী এই রাজতান্ত্রিক রূপরেখাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। তাছাড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, যা পাহলভির এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।
-এম এইচ মামুন










