ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে পদ্মা সেতু

দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে পদ্মা সেতুতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ডি-টোল) ব্যবস্থাকে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সরকারি সফরে খুলনা যাওয়ার পথে তিনি নিজে এই ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন এবং পদ্মা সেতু ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ট্যাগ রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “মানুষের যাত্রা অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও উন্নত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের এটি একটি ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। সাধারণত নগদ টাকায় টোল দিতে গিয়ে বুথগুলোতে গাড়ির গতি কমে যায় এবং দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। কিন্তু ডি-টোল চালুর ফলে এখন তাৎক্ষণিকভাবে টোল প্রসেসিং সম্ভব হচ্ছে। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে এবং জ্বালানি ও সময়—উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে।”

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালেই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যমুনা সেতু, মেঘনা ও গোমতী সেতুসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় সেতুগুলোতেও এই ডি-টোল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সকল মহাসড়ক ও সেতুর জন্য একটি একীভূত বা ‘ইউনিফাইড’ ডিজিটাল টোলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

পরিদর্শনকালে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আব্দুর রফিকসহ আইসিটি ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এটুআই নির্মিত এই সিস্টেমটির পাইলট কার্যক্রম গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে: এ পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন এই সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। ডি-টোলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এবং বর্তমানে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিডল্যান্ড, এনসিসি ও প্রাইম ব্যাংক—এই সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটির সাথে যুক্ত রয়েছে।

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—ডি-টোল ব্যবহারের জন্য নতুন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। গ্রাহকরা তাদের বর্তমান মোবাইল ব্যাংকিং বা প্রচলিত ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেই অত্যন্ত সহজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করতে পারছেন।

পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহিদ পাভেল এবং হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

লামিয়া আক্তার