আড়াইহাজারে স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

সকালটা শুরু হয়েছিল নতুন স্বপ্ন আর পাঠ্যবইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে। প্রতিদিনের মতো মা স্বপ্ন দেখছিলেন মেয়ে বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু একটি দ্রুতগতির ঘাতক ট্রাক মুহূর্তেই সেই সব স্বপ্ন পিষে দিল পিচঢালা রাস্তায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ৫ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা।

মুহূর্তেই সব শেষ
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা। উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মা ও মেয়ে অপেক্ষা করছিলেন একটি রিকশার জন্য। গন্তব্য ছিল স্থানীয় ‘এভারগ্রিন কিন্ডারগার্টেন’। কিন্তু রিকশা আসার আগেই সেখানে যমদূত হয়ে হাজির হয় একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক। চোখের পলকে মায়ের হাতের বাঁধন আলগা করে দিয়ে ট্রাকটি ফাতেমাকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে পড়ে রাস্তায়। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় ছোট্ট এই প্রদীপটি।

শোকাতুর জনপদ
দুর্ঘটনার পর ঘাতক চালক ও হেলপার ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে গেলেও রেখে গেছে এক মায়ের আর্তনাদ। রাস্তার ওপর মেয়ের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে ফাতেমার মায়ের বারবার মূর্ছা যাওয়ার দৃশ্য উপস্থিত কাউকেই চোখের জল ধরে রাখতে দেয়নি। পুরো কালীবাড়ি এলাকায় এখন কেবলই শোকের ছায়া। নিহত ফাতেমা তিনগাঁও গ্রামের হাসেমের আদরের সন্তান ছিল।

ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
এ ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের অভিযোগ:
সড়কটিতে ভারী যানবাহনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কোনো বিশেষ নজরদারি নেই।
একটি অবোধ শিশুর অকাল মৃত্যু কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙাবে? নাকি আবারও অন্য কোনো মায়ের কোল খালি হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে এই ঘাতক সড়ক—এমনই প্রশ্ন এখন আড়াইহাজারবাসীর মনে।

মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ