নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে বিভাজন দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে। এই বিভাজন দেশটির অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমি আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।”
তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে, কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই জানিয়েছেন, কমিশন চিঠিপত্র পেয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করলেও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে সভাপতি নির্বাচন করে।
৪৯ বছর বয়সি গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ এবং আগে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিকে প্রতিফলিত করছে। পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলাচ্ছে এবং নতুন মুখদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি ৭৩ বছর বয়সি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচনের আগপর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছে। সুশীলা কার্কি নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: এএফপি
-মেহেরীন হাসান খান//










