সমালোচনার মুখে পিছু হটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক আর বাস্তব মানুষের ছবি সম্পাদনা করে অশালীন বা উন্মুক্ত পোশাকে দেখাতে পারবে না। যেসব দেশে এ ধরনের কনটেন্ট আইনত অবৈধ, সেখানে এই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে এক্স জানায়, বাস্তব মানুষের ছবি বিকিনি, অন্তর্বাস কিংবা অনুরূপ উন্মুক্ত পোশাকে রূপান্তরের সুযোগ প্রযুক্তিগতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে—অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহকরাও আর এ সুবিধা পাবেন না।
এক্সের ভাষ্য, আইন লঙ্ঘন ও প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ভঙ্গ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রোকের অপব্যবহার করে কেউ যেন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি গ্রোক ব্যবহার করে তৈরি যৌন আবেদনময় ‘ডিপফেক’ ছবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, অনুমতি ছাড়াই বাস্তব মানুষের ছবি সম্পাদনা করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি শিশুদের ছবিও এতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ কৌঁসুলি জানান, গ্রোক দিয়ে তৈরি যৌন ডিপফেক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এতে শিশুদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক্স আরও জানায়, যেসব দেশে আইন অনুযায়ী এ ধরনের ছবি তৈরি অবৈধ, সেখানে গ্রোকের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না। অঞ্চলভিত্তিকভাবে ফিচারটি বন্ধ রাখতে ‘জিওব্লকিং’ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে গ্রোক ব্যবহারে কিছু সীমিত ছাড় থাকছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, কেবল কল্পিত প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্য দেখানোর অনুমতি থাকতে পারে। তবে বাস্তব কোনো মানুষের ছবি এতে ব্যবহার করা যাবে না। মাস্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আর-রেটেড সিনেমায় যা দেখা যায়, সেটিই একটি মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে—যদিও দেশভেদে আইন অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হবে।
এর আগে গ্রোক নিয়ে সমালোচনার জবাবে মাস্ক দাবি করেছিলেন, সমালোচকেরা মূলত বাকস্বাধীনতা দমন করতে চান। তিনি এক্সে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একটি এআই–তৈরি ছবি পোস্ট করেও বিতর্কে জড়ান।
গত কয়েক দিনে ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশ গ্রোকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া গ্রোক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে—এই দুই দেশই প্রথম সরাসরি গ্রোককে নিষিদ্ধ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়। তবে শুধু প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়; কার্যকর আইন ও শক্ত নজরদারিও জরুরি।
-এমইউএম










