টানা পাঁচ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পর অবশেষে নিজেদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরান। বুধবার গভীর রাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বুধবার রাত থেকে ইরানের আকাশসীমায় সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোতে দেখা যায়, ইরানের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী বিমানগুলো তড়িঘড়ি করে পথ পরিবর্তন করে বিকল্প রুটে চলে যাচ্ছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, কোনো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ওভাল অফিসে বসে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন এবং বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশসীমা বন্ধের এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে আকাশসীমা রুদ্ধ করার বিষয়টিকে অনেকেই ‘যুদ্ধ প্রস্তুতির’ অংশ হিসেবে দেখছেন।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে তেহরানের ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বড় বিমানবন্দরগুলোতে এখনও বাড়তি নিরাপত্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পরে জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ‘প্রতিরক্ষা মহড়া’ ছিল, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটোতে উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন মোড় যখন বিশ্বকে উত্তপ্ত করে রেখেছে, তখন ইরানের এই রহস্যময় আচরণ কোনো বড় ঝড়ের পূর্বাভাস হতে পারে।
-এম. এইচ. মামুন










