জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় তাড়াহুড়া কার স্বার্থে-সিপিডি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা তৈরিতে অন্তর্বর্তী সরকার কেন তাড়াহুড়া করেছে এবং এটি কার স্বার্থে করা হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্ন তোলে সংস্থাটি।

এ সময় সিপিডি জানায়, কোনো ধরনের আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়াই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই মহাপরিকল্পনা আবারো আমলাদের মতামত প্রাধান্য পেয়েছে। এত তাড়াহুড়ো কেন করা হচ্ছে; কার স্বার্থে করা হচ্ছে?

এই মহাপরিকল্পনা নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ সিপিডি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে এই খসড়া পুনর্বিবেচনা করতে হবে। খসড়া মহাপরিকল্পনায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা দেখানো হয়েছে। যা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমান মহাপরিকল্পনা আগের সরকারের করা মহাপরিকল্পনারই অনুরূপ। নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ীমূল্যে বিদ্যুৎ আনার সুযোগটি পুরোটাই উপেক্ষা করা হয়েছে।

সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টিও উপেক্ষিত থেকেছে উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়াবে ৫০ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট। এটা অবাস্তব। সিপিডির হিসাবে, এই চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হবে না। বাংলাদেশে নতুন করে আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ দেখতে চায় না। সিপিডি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়।

সিপিডি আরও জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৭০ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে ৪৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি থেকে আসে। ২০৫০ সালের মধ্যে সরকার চায়, এই অংশ কমিয়ে আনা হবে ২৯ শতাংশে। তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমানে ১৭ শতাংশ, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১ শতাংশে নামানো হবে।

সরকার ২৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ২০৫০ সালের মধ্যে সৌর বা সোলার থেকে ৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তবে মহাপরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০৪০ সালের আগে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বড় কোনো প্রকল্প বা উদ্যোগ নেই।

নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন ১০৭.৪ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে বলেও জানায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ।

-সানা