চবিতে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা, দুদকের অভিযান

দুটি পৃথক অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চবিতে নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে দুদক, চট্টগ্রাম-১-এর একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিযান চালায়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত প্রায় ১৫ মাসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ফিন্যান্স বিভাগে প্রো-ভিসির কন্যা, ক্রিমিনোলজি বিভাগে আরেক প্রো-ভিসির ভাগ্নে এবং ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে রেজিস্ট্রারের ভাইয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এছাড়া, বাংলা এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। নিয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবায় হয়রানি
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুদকের আরেকটি দল অভিযান চালায়।

অভিযানকালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং পরিমাণেও অপর্যাপ্ত পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রিএজেন্টের অভাবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ব্যাহত হওয়া এবং হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে দুদক।

দুদক জানিয়েছে, উভয় ক্ষেত্রেই সংগৃহীত তথ্যের আলোকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক