ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সেই কিশোর হকার শরিফ অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। চলন্ত ট্রেনের দরজায় ঝুলন্ত অবস্থায় তার জীবন বাঁচানোর আকুতি এবং এক পর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
ভাইরাল ভিডিওতে যা ছিল
ভিডিওতে দেখা যায়, শরিফ নামে ওই কিশোর হকার কোমল পানীয় ভর্তি একটি গামলা মাথায় নিয়ে চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরের হ্যান্ডেল ধরে কোনোমতে ঝুলে আছে। এসময় ভেতর থেকে রেলওয়ের কর্মীদের বলতে শোনা যায়, ‘মালামাল ফেলে দে, না হলে ভেতরে আসতে পারবি না।’
আতঙ্কিত শরিফ তখন চিৎকার করে বলছিল, “স্যার, দরজাটা খোলেন! আমি পড়ে যাবো! স্যার, ট্রেনটা কি একটু স্লো করা যায় না?” কিন্তু তাকে সাহায্যের পরিবর্তে মালামাল ফেলে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে ট্রেনের গতির মুখে ভারসাম্য হারিয়ে সে নিচে পড়ে যায়।
বেঁচে ফেরার বর্ণনা দিল শরিফ
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মাথায় ব্যান্ডেজ পরিহিত অবস্থায় শরিফ বলেন, “আমি তো মরেই যেতাম! সবাই ফেসবুকে লিখেছে আমি মারা গেছি, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি।”
সে জানায়, ট্রেনের গতি যখন বাড়ছিল, সে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মীরা দরজা না খুলে উল্টো তাকে ধমক দিচ্ছিলেন। শরিফ বলে, “আমার মাথায় ১২ থেকে ১৩টা সেলাই লেগেছে। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ট্রেনে দায়িত্বরত স্টুয়ার্ড সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম জানান, ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়। যে দরজায় শরিফ লাফিয়ে উঠেছিল, সেটি লক করা ছিল এবং চাবি অন্য কর্মকর্তার কাছে ছিল। চাবি আনার চেষ্টা করার আগেই সে পড়ে যায়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আহত শরিফ বর্তমানে গফরগাঁওয়ে স্থানীয় একজনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তার সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় রেলওয়ে কর্মীদের অমানবিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, কর্মীরা ইচ্ছা করলেই দরজা খুলে কিশোরটির জীবন রক্ষা করতে পারতেন।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










