২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো কানাডা থেকে পণ্য আমদানি কমিয়েছে চীন। চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে কানাডা থেকে চীনের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বেইজিং সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ায়, অটোয়ার ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাবের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বুধবার প্রকাশিত নির্ধারিত মাসিক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কানাডা থেকে চীনের আমদানি ১০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪১৭০ কোটি মার্কিন ডলারে। এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ডে। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালে কানাডা থেকে চীনের আমদানি কমেছিল, যখন কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় আমদানি ২২.৩ শতাংশ কমে যায়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এটি ২০১৭ সালের পর কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমানো, যা ২০২৪ সালে আরও তীব্র হয়। ওই বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের অনুসরণে চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।
চীন সফরের পথে বিমানে ওঠার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারনি লেখেন,“আমি বেইজিংয়ের পথে রওনা হচ্ছি। চীন আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বাস্তববাদী ও গঠনমূলক সম্পর্ক প্রশান্ত মহাসাগরের দুই পাড়েই আরও বেশি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।”
কারনির এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ইতিবাচক বৈঠকের পর। যদিও ওই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি বিশেষ করে চীনা শুল্কের কারণে কানাডার ক্যানোলা এখনও তাদের সবচেয়ে বড় বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না তবুও দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন। ওই বৈঠকেই শি জিনপিং কারনিকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা তিনি গ্রহণ করেন।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যের প্রয়োজন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ করেন এবং এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাবও দেন।
কারনির সফরের আগে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলো কানাডার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন” বজায় রাখার আহ্বান জানাতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত চায়না ডেইলি সোমবার এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “কানাডা যদি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির মূল কারণগুলো নিয়ে চিন্তা করে, বিশেষ করে আগের জাস্টিন ট্রুডো সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চীনকে নিয়ন্ত্রণের নীতি তাহলে তারা বুঝতে পারবে যে চীন-সংক্রান্ত বিষয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখলে একই পরিণতি এড়ানো সম্ভব।”
“বেইজিংয়ের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সামাল দিয়ে কাজ করলে অটোয়া কানাডার স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারবে।”
চীনের কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চীনের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ১৪.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সুত্র: রয়টার্স
-এমইউএম









