বগুড়ার মহাস্থানে ৪-৫ টাকা কেজির ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা বিক্রি, কৃষকের মুখে হাসি

বগুড়ার মহাস্থানে ফুলকপি নিয়ে হাটে বসে আছে কৃষক

সবজির পাইকারি হাট হিসেবে খ্যাত উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম বগুড়ার মহাস্থান হাট। এখনও শীতের সবজিতে ভরপুর। শীতের সবজি এ অঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে যেকারনে চলতি সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু হয়েছিল। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত মহাস্থানের সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত ট্রাক যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

শীতের আগাম জাতের ফুলকপি চাষে এ অঞ্চলের কৃষকেরা ভালো দাম পেলেও মাঝখানে এক জোয়ারে ফুলকপি উঠাই বাজার ধস নেমে এসেছিল। শীতের সবজি হিসেবে মহাস্থান বাজারে সবচেয়ে যে সবজির কদর বেশি সেটিই হলো ফুলকপি৷ শীত মৌসুমের শুরুতে দাম স্বাভাবিকভাবে কিছুটা বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়ার কারনে মহাস্থান হাটে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে পানীর দামে। ২ সপ্তাহ আগে যে ফুলকপি ছিল ৪ থেকে ৫ টাকা কেজি, আজ সেই ফুল কপি প্রকার ভেদে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

বুধবার মহাস্থান হাটের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলকপির সরবরাহ অনেক কম। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরে এই সময় অনেক কৃষকেরা মাত্রাতিক্ত জমিতে ফুলকপির চাষাবাদ করেছিল। বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষককে লোকসান গুণতে হয়েছিল। গত বছরের কথা ভেবে অনেকেই এ বছরে ফুলকপি চাষ কম করেছে। কিছু দিন আগে পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় ফুলকপি নেওয়ার মত পাইকারিই ছিল মহাস্থান হাটে। দাম না পেয়ে অনেকেই জমিতে ফুলকপি নষ্ট করে অন্য ফসল চাষাবাদ করছেন। যে কারনে বাজারে ফুলকপির আমদানি কম এবং বাজার চড়া। বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকা এবং ব্যাপক চাহিদা থাকায় দাম বাড়তি বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। শীত মৌসুমে স্বাদের দিক থেকে মহাস্থান হাটের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলা সবজি অনেকেরই পছন্দ।
ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষ ও ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন মহাস্থানহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান, ফুলকপির বাজার আর কমার কোন সম্ভাবনা নেই। সবজির ভরা মৌসুমে মহাস্থান হাটে শতশত নারী- পুরুষ শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো এ অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত সবজি ভোর হতে না হতেই মহাস্থান হাটে নিয়ে আসেন। আবার বেলা ১২টার সাথে সাথে সব সবজি বিক্রি করে চলে যান।

 

-গোলাম রব্বানী শিপন

মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধি