বিটিএস বিশ্ব সফরে বাংলাদেশে আসবে কি ভক্তদের মনে প্রশ্ন

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বসফরের ঘোষণা দিল। প্রায় চার বছরের বিরতির পর, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে দক্ষিণ কোরিয়া কনসার্টের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে তাদের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই সফর এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপজুড়ে ৭০টিরও বেশি শো নিয়ে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। তবে, এই সফরের তালিকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাম না থাকায় স্থানীয় ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিটিএস কি বাংলাদেশে আসবে?

দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা শেষ করে সাত সদস্যের এই গ্রুপ ২০ মার্চ তাদের নতুন সঙ্গীতের ঘোষণা দেয়। এর পরপরই এই বিশ্ব সফরের ঘোষণা আসলো, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছে। এটি তাদের ২০২১-২২ সালের ‘পারমিশন টু ডান্স অন স্টেজ’ সফরের পর প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সফর। হাইব এর অনলাইন ফ্যান প্ল্যাটফর্ম উইভার্স এ রেজিস্টার করা ‘আর্মি মেম্বারশিপ’ হোল্ডারদের জন্য ২২ এবং ২৩ জানুয়ারি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে এবং ২৪ জানুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সফরটি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং এবং বুসান দিয়ে শুরু হয়ে জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, পেরু, কলম্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন এবং হংকং-এর মতো বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আয়োজক সংস্থা বিগহিট মিউজিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও নতুন শহর যুক্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য আশা জাগিয়ে রাখছে। যদিও বিটিএস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কখনো পারফর্ম করেনি, তবুও এদেশের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী, যারা ‘আর্মি’ নামে পরিচিত, তাদের প্রিয় ব্যান্ডকে নিজ দেশে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

বিটিএস, যা বাংতান সোনিয়োন্দন বা ‘বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটস’ নামেও পরিচিত, বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের (বর্তমানে হাইব কর্পোরেশন) অধীনে ২০১৩ সালের ১৩ জুন তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘টু কুল ফর স্কুল’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। সাত সদস্যের এই ব্যান্ডে রয়েছেন আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাংকুক।হিপ-হপ ঘরানার সঙ্গীত দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে তারা পপ, আরএন্ডবি এবং বিভিন্ন জনরার গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। তাদের গানের কথায় আত্মপ্রেম, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক বিষয়গুলো তুলে ধরায় তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মাহমুদ সালেহীন খান