ফুটপাতে আম বিক্রেতা আলী হোসেন হঠাৎ একাধিক বহুতল ভবনের মালিক

রাজশাহীর সাহেব বাজারে ফুটপাতে আম বিক্রি করতেন আলী হোসেন। খোঁজ নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, হোসেন আলী নামের এক ব্যবসায়ীর চেম্বারে পিয়নের কাজ করতো আলী হোসেন। বর্তমানে রাজশাহী নগরীর দাসপুকুরে চার তলা বিশিষ্ট একটি ভবনে বসবাস করে আলী হোসেন।

আলোকিত স্বদেশ প্রতিনিধি দাসপুকুর গিয়ে খোঁজ নিলে এলাকাবাসী বিস্নয় প্রকাশ করে বলেন, “আলি হোসেন অল্প কিছুদিনের মধ্যে কী এমন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গেল যাতে এই অল্প সময়ে হঠাৎ করে বিপুল-বিপুল সম্পদের ও একাধিক বহুতল ভবনের মালিক হয়ে যায়!” নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে জানা যায় রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্র স্বর্ণ পট্টিতে একটা বহুতল ভবন ও গুড়পট্টিতে আরেকটি বহুতল ভবনের মালিক এই আলী হোসেন। কিন্তু সামান্য ফুটপাতে আম বিক্রি করে এটা কিভাবে সম্ভব। তাহলে এর গোপন রহস্য কি?

বর্তমানে আলাদীনের চেরাগ পাওয়া আলী হোসেন রাজশাহীর টক অব দা টাউন। সর্বত্র চলছে এই আলোচনা। বর্তমানে রাজশাহীর গুড় পট্টিতে যে বহুতল ভবন তৈরি করছেন এই আলী হোসেন তা সিটি কর্পোরেশনের ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আর.ডি.এ) এর বেশিকিছু জায়গা দখল করে গায়ের জোরে, পেশি শক্তি ব্যাবহার করে ও বহিরাগতদের সহযোগিতায় গুড়পট্টির বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই আলী হোসেন।

বিষয়টি জানার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গুড়পট্টির অবৈধ বহুতল ভবনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য লিখিত নোটিশ দেয় এবং পরবর্তীতে অবৈধ বহুলতল ভবন অপসারণে নির্দেশ দেয় এবং রাজশাহী নেসকো লিমিটেডকেও ঐ গুড়পট্টির বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার জন্য লিখিত নোটিশ প্রদান করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় গত ১৭/১২/২০২৫ইং তারিখে আলী হোসেনকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আলী হোসেনকে তলব করলে দৈনিক আলোকিত স্বদেশ প্রতিনিধির সামনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আলী হোসেন তার বহুতল ভবনের কোন নকশা বা অনুমোদন দেখাতে পারেনি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলী হোসেন কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে গুড়পট্টির অবৈধ বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আলী হোসেন রাজশাহীর দাসপুকুরে বসবাস করেন সেই ভবনও চার তলা বিশিষ্ট। ফুটপাতে আম বিক্রি করে কিভাবে রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-তাহলে আলী হোসেনের অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার প্রকৃত উৎস কী? এসব নিয়ে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

-মো: গোলাম কিবরিয়া

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি