বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত লক্ষ্য ও খাতের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক এবং বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করার ফলে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের চাপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ কার্যপরিধির মধ্যে থেকে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন।

সভায় আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, মূলধন পরিস্থিতি, কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ, খেলাপি ঋণ, খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায় এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কিছু বিশেষায়িত ব্যাংক তাদের নির্ধারিত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ করছে, যার বড় একটি অংশ পরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এ ধরনের ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের হার বেশি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আলাদা আইন অনুযায়ী গঠিত। তাই তাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ খাতে ঋণ বিতরণ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তিনি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, এ খাতের ঋণগ্রহীতারা সাধারণত নিয়মিত ঋণ পরিশোধে আগ্রহী হওয়ায় খেলাপির হার তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

সভায় আরও বলা হয়, সিএমএসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিলে খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। এ ছাড়া অবলোপন করা ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করে এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ের জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনাকে নিয়মিতভাবে আদায় পরিস্থিতি তদারকির আহ্বান জানানো হয়।

-আফরিনা সুলতানা