চুলের যত্নের জন্য আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে আমলা তেল ব্যবহার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। আমলা তেল শুধু চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় না, বরং চুলকে শক্তিশালী, মসৃণ এবং উজ্জ্বল রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের ভেড়া কমে আসে, কুয়াশা বা শুষ্ক চুল নরম হয় এবং রূপচর্চার পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
উপকরণ: তেল (প্রাকৃতিক, বিশুদ্ধ)
আমলা হালকা কুড়ানো কাপড় বা শাওয়ার ক্যাপ
ব্যবহারের নিয়ম: ১. চুল প্রস্তুত করা: চুল ভালোভাবে ব্রাশ বা কাঁসা দিয়ে চুলের আঁচড় বা কোঁচকানো অংশ মুক্ত করতে হবে। এটি তেলের সমানভাবে ছড়ানোর জন্য প্রয়োজন।
২. তেলের পরিমাণ নির্ধারণ: আয়ুর্বেদিকভাবে সাধারণত ২–৩ চামচ আমলা তেল ছোট চুলের জন্য, আর মাঝারি থেকে লম্বা চুলের জন্য ৩–৫ চামচ তেল প্রয়োজন। চুলের আকার অনুযায়ী তেল সামঞ্জস্য করুন।
৩. মাথায় তেল লাগানো: তেলটি হালকা গরম করে নিন। খুব গরম না করে হালকা উষ্ণ করা যথেষ্ট। এরপর আঙ্গুলের সাহায্যে মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ায় তেল ম্যাসাজ করুন। চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করলে রক্তস্রোত বাড়ে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চুলের মাঝ ও পেছনের অংশেও হালকা তেল ছড়িয়ে নিন।
৪. ম্যাসাজের সময়: তেল লাগানোর পর হালকা -এ ৫–১০ মিনিট মাথায় ম্যাসাজ করুন। এতে মাথার ত্বক প্রফুল্ল হয় এবং চুলের শিকড় শক্ত হয়।
৫. চুলে তেল ধরে রাখা: ম্যাসাজ শেষে চুলে আমলা তেল ১–২ ঘন্টা ধরে রাখতে পারেন। চাইলে রাতে শোওয়ার আগে তেল লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন, সকালে ধুয়ে নেবেন। তেলের ধাক্কা থেকে বাঁচতে চুলকে হালকা কাপড় বা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন।
৬. ধোয়ার পদ্ধতি: ধোয়ার সময় শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে হালকা গরম জলে চুল ভিজিয়ে তেল কিছুটা ধুয়ে ফেলুন, তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। চুলে বাকি তেল থাকলে আরও একবার হালকা ধোয়া ভালো।চুলের ধরন ও সমস্যার ওপর ভিত্তি করে সপ্তাহে ২–৩ বার আমলা তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযোগী। অতিরিক্ত ব্যবহারে চুল ভারী হয়ে যেতে পারে, তাই সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়।
চুলকে শক্তিশালী ও ঘন করে।
শুষ্ক ও ভেজা চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।
চুলের রূপচর্চার পাশাপাশি মাথার ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখে।
কুয়াশা বা চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যবহার করলে আমলা তেল চুলের স্বাস্থ্য, ঘনত্ব ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে এক অনন্য সমাধান। আয়ুর্বেদিক এই পদ্ধতি সহজ, প্রাকৃতিক এবং দীর্ঘমেয়াদি চুলের যত্নের জন্য কার্যন্দল
-বিথী রানী মণ্ডল










