বর্তমানে আনুশকার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মাতৃত্ব। অভিনয় বা ক্যারিয়ারের চেয়ে ‘মা’ পরিচয়টিকেই তিনি এখন সবচেয়ে বড় করে দেখছেন। স্বামী বিরাট কোহলি ও দুই সন্তান ভামিকা এবং অকায়কে ঘিরেই তার দিন কাটছে। বড় মেয়ে ভামিকা ইতিমধ্যেই পাঁচ বছরে পা দিয়েছে, আর ছোট ছেলে অকায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরে পূর্ণ করবে। সন্তানদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই এখন আনুশকার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বলিউডের রুপালি পর্দা, ক্যামেরার ঝলক আর আলোঝলমলে গ্ল্যামার—এই সবকিছু থেকেই এখন বহু দূরে আনুশকা শর্মা। এক সময় যিনি ছিলেন বড় পর্দার নিয়মিত মুখ, আজ তিনি বেছে নিয়েছেন একেবারে ভিন্ন এক জীবনপথ। ঝুলন গোস্বামীর বায়োপিক ‘চাকদহ এক্সপ্রেস’ দিয়ে তার দাপুটে প্রত্যাবর্তনের যে ইঙ্গিত মিলেছিল, সেই ছবির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই যেন নিজের জীবনের নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন ‘জিরো’ অভিনেত্রী।
ভামিকার পঞ্চম জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের মনের কথা খুলে বলেছেন আনুশকা। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, মাতৃত্ব তার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, মাতৃত্বের পর তিনি আর আগের কোনো অবতারে ফিরতে চান না—যে অবতার তার সন্তানকে চেনে না বা বুঝতে পারে না। এই কথার মধ্য দিয়েই যেন অভিনেত্রী ইঙ্গিত দিলেন, অভিনয়ে ফেরা এখন তার অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।
গত দেড় বছর ধরে বিরাট-আনুশকা পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন। এর পেছনে মূল কারণ একটাই—সন্তানদের ফটোশিকারিদের ক্যামেরা ও চর্চার আলো থেকে দূরে রাখা। বলিউডের ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ জীবনের বাইরে, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে সন্তানদের বড় করতে চান এই তারকা দম্পতি। লন্ডনের জীবনে আনুশকা পুরোপুরি সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
এর পাশাপাশি তাদের জীবনে যুক্ত হয়েছে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। বিরাট ও আনুশকাকে মাঝেমধ্যেই বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে দেখা যায়। সংসার, সন্তান আর আত্মিক অনুশীলনের মধ্যেই এখন গড়ে উঠেছে আনুশকা শর্মার বর্তমান জীবন। সব মিলিয়ে বলা যায়, বলিউডের আলোঝলমলে পর্দা ছেড়ে আপাতত তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক শান্ত, পরিপূর্ণ এবং গভীর অর্থবহ জীবনের ঠিকানা।
বিথী রানী মণ্ডল/










