পাকিস্তান ভবিষ্যতে কোনো ধরনের “দুঃসাহস” দেখালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
গত বছর শুরু হওয়া বিতর্কিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনো চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অভিযানের সময় পাকিস্তানের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের বিপরীতে স্থল যুদ্ধের জন্য ভারতীয় সৈন্যরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী এসব মন্তব্য করেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।
গত বছরের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক অভিযানের সূত্রপাত হয়। ভারতের দাবি অনুযায়ী, ৭ মে পাকিস্তানের ভেতরে ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন সন্ত্রাসী আস্তানায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে শুরু হওয়া এবং টানা ৮৮ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া এই অভিযানে ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছিল বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, এই অপারেশনটি ছিল রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং সামরিক স্বাধীনতার এক অনন্য সমন্বয়। তিনি দাবি করেন, “৮৮ ঘণ্টার ওই অভিযানে পাকিস্তানের গভীরে আঘাত হেনে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হুমকির বাগাড়ম্বরকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কেবল আকাশপথ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নয়, বরং যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান শুরুর জন্য ভারতীয় পদাতিক বাহিনীও রণপ্রস্তুতি নিয়ে মোতায়েন ছিল।
সেনাপ্রধান জানান, ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি বর্তমানে ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৩১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের ৬৫% পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে পেহেলগাম হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে (১০-এর নিচে) নেমে এসেছে।”
জেনারেল দ্বিবেদী ইসলামাবাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত এখন প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর সম্প্রসারণ করেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে ভারত আগের চেয়ে আরও বিধ্বংসী পদ্ধতিতে তা মোকাবিলা করবে।
এনডিটিভি/
এম.এইচ. মামুন










