ইরানে বাড়ি বাড়ি তল্লাশিতে ব্যাপক মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, বিভিন্ন এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো’ বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতা ছড়াতে এসব অস্ত্র মজুত করেছিল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই মারণাস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র এবং আইইডি বা বিস্ফোরক ডিভাইস। গোয়েন্দা সংস্থাটির ধারণা, বিক্ষোভকে সশস্ত্র দাঙ্গায় রূপ দিতে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম বিদেশ থেকে চোরাপথে আনা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপের ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানান, বিক্ষোভকারীদের নির্দেশনা দেওয়ার বেশ কিছু অডিও রেকর্ডিং এখন সরকারের হাতে। তার দাবি, অডিওর কণ্ঠস্বরগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো দেশের বাইরে থেকে আন্দোলনকারীদের উসকানি ও নাশকতার ছক বুঝিয়ে দিচ্ছে।

ইরানে চলমান অস্থিরতা এবং ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে তেহরানের এই দাবিগুলো ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানি সামরিক কমান্ডাররা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বিদেশি আক্রমণ বা সার্বভৌমত্বে আঘাত রুখে দিতে ইরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ‘অস্ত্র উদ্ধারের দাবি’ আন্তর্জাতিক মহলে তেহরানের কঠোর অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে এর ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনীভূত হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ আলজাজিরা

-এম. এইচ. মামুন