সৌদানে ড্রোন হামলায় ২৭ জন নিহত

ছবি সংগৃহীত

সুদানের প্যারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দক্ষিণ-পূর্ব শহর সিঞ্জার একটি সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। এক সামরিক সূত্র আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবারের হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন সরকার ঘোষণা করেছিল যে একদিন তারা খার্তুমে ফিরছে—যা তিন বছর ধরে পোর্ট সুদান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

এসএএফ এবং আরএসএফ এপ্রিল ২০২৩ থেকে নির্মম গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে খার্তুম রাজ্য প্রধান বিরোধের কেন্দ্র।

একজন সামরিক সূত্র, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন।তিনি জানান, “সোমবারের ড্রোন হামলায় কেবল সরকার বাহিনীর নেতাদেরই লক্ষ্য করা হয়নি, বরং তাদের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা দল এবং বেসামরিকরাও লক্ষ্যবস্তু ছিল।“

হামলায় কতজন আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। আল জাজিরার কাছে তথ্য অনুযায়ী ১৩ জন আহত হয়েছেন, তবে কিছু অনুমান আরও বেশি। এএফপি সংবাদ সংস্থা সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্রের ভিত্তিতে আহতদের সংখ্যা ৭৩ জন হিসেবে জানিয়েছে।

সুদানের হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর কামার আল-দীন ফাদল আল-মাওলা হামলার সময় সিঞ্জায় উপস্থিত ছিলেন, সরকার সূত্রে বলা হয়েছে। তিনি বেঁচে গেছেন, তবে তার দুই সহকর্মী নিহত হয়েছেন।

সিঞ্জা, সেন্নার রাজ্যের রাজধানী, খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিমি (১৮০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর। এখানে এসএএফ -এর ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদরদফতরও রয়েছে, যা সোমবারের হামলার লক্ষ্য ছিল।

আরএসএফ উপদেষ্টা আল-বাশা টিবিক ফেসবুকে জানিয়েছেন, এই ড্রোন হামলার উদ্দেশ্য ছিল সুদানের সামরিক নেতাদের সতর্ক করা।

তবে সেন্নার রাজ্যের মুখপাত্র সালাহ আডাম আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, এসএএফ এই ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তিনি বলেন “সেনাবাহিনীর এন্টি-এয়ারক্রাফট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি মোকাবিলা করেছে।”

গৃহযুদ্ধ এখন তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে।এসএএফ করদোফান ও দারফুর অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন অভিযান চালাচ্ছে। এসএএফ জানিয়েছে, শুক্রবারের এক সিরিজ আকাশ ও স্থল অভিযান চলাকালীন তারা আরএসএফ -কে বড় ধরনের ক্ষতি দিয়েছে, কিছু এলাকা থেকে আরএসএফ সন্যদের সরিয়ে দিয়েছে এবং শত শত নিহত হয়েছে।

রবিবার, সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ঘোষণা করেছেন যে সরকার খার্তুমে ফিরছে, শহরটি মে মাসে সেনাবাহিনী পুনরুদ্ধার করার পর। সরকার ধীরে ধীরে পুনরায় ফিরে আসার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

গৃহযুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে আরএসএফ রাজধানী দখল করে, ফলে সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার পালাতে বাধ্য হয়। এই সময়ে পোর্ট সুদান সরকারের যুদ্ধকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তীব্র সংঘর্ষ এবং বৈশ্বিক তহবিলের কাটা-কাটির কারণে সুদানের ২১ মিলিয়নের বেশি মানুষ প্রায় ৪৫ শতাংশ জনসংখ্যা ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকটগুলোর একটি।

শুক্রবারে গৃহযুদ্ধ ১,০০০ দিন পূর্ণ করেছে। সংঘর্ষের কারণে আনুমানিক ১৩.৬ মিলিয়ন মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি ত্যাগ করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সঙ্কট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

-এমইউএম