৪৩ খাতের পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ ৬ মাস বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়জুড়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য এই প্রণোদনা কার্যকর ছিল। বর্তমান রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একই হারে সুবিধা বহাল রেখে মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পণ্য ও খাতভেদে রপ্তানিকারকরা ন্যূনতম শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এ প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা থাকবে। পাশাপাশি নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে বস্ত্র রপ্তানিতে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ প্রণোদনা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্যে ১০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য ও পাটসুতায় ৩ শতাংশ এবং গরু ও মহিষের নাড়ি রপ্তানিতে ৬ শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে।

হিমায়িত মাছ ও মৎস্যপণ্য রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫০ থেকে ৮ শতাংশ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট লেদার, ফিনিশড লেদার ও পিইটি বোতল ফ্লেক্স রপ্তানিতে ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকবে। জাহাজ রপ্তানিতেও ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন, শস্য ও শাকসবজি, আসবাবপত্র, আগর ও আতর রপ্তানিতে ৮ শতাংশ এবং প্লাস্টিক সামগ্রী ও দেশে উৎপাদিত কাগজপণ্যে ৬ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এভাবে মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে বিভিন্ন মাত্রায় নগদ সহায়তা কার্যকর থাকবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

আফরিনা সুলতানা/