অনুমোদিত আসনের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য চালানোর অভিযোগের পর এবার কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে শিক্ষা প্রশাসন। অতিরিক্ত ভর্তি ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত শাখা ও ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এ লক্ষ্যে সব নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও কলেজিয়েট বিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অনুমোদিত শ্রেণি শাখা, শিফট এবং বর্তমানে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে উল্লেখ করেছে শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায়। সেই হিসাবে দুই শাখায় ১১০ জন এবং তিন শাখায় ১৬৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নেই। এই সীমা অমান্য করে অতিরিক্ত ভর্তি হওয়ায় একদিকে অনিয়ম বাড়ছে, অন্যদিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলো টিকে থাকতে পারছে না।
তিনি বলেন, “কিছু স্কুল অনুমোদনের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে। এতে আশপাশের অন্যান্য স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতেই এবার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, নির্ধারিত সংখ্যার বেশি ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। ফলে এসব শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হতে হবে। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি নীতিগত পরিবর্তন, যার মাধ্যমে অনৈতিক ভর্তি বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ করা হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানান, অতিরিক্ত ভর্তি রোধে আইনগত বিধান আগে থেকেই থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি। তবে এবার আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে গার্লস স্কুলসহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ও সংস্থা পরিচালিত সব বিদ্যালয়কে অনুমোদিত শাখা ও শিফট খোলার অনুমতিপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মালিহা










